গুজরাট গনহত্যা 2002, Gujrat Pogrom 2002, Naroda Patia

Gujarat Massacre 2002: 19 বছর পরেও ক্ষতিগ্রস্থরা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়

Gujarat Massacre 2002: The Alliance to Save and Protect America from Infiltration Religious Extremists (ASPAIRE) ২৮ শে ফেব্রুয়ারী, ২০২১ “ভারতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের উপর হামলার প্রতিরোধ” “Resisting the Assault on Democracies in India and the US” শীর্ষক অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠিত করলো  । গুজরাট গণহত্যার প্রতিবাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত প্রখ্যাত ব্যাক্তিদের নিয়ে এই ওয়েবিনারে  জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

বক্তারা হলেন, The Alliance to Save and Protect America from Infiltration Religious Extremists (ASPAIRE) এর সহ-সভাপতি ডাঃ শাক উবাইদ, বিজয়লক্ষ্মী নাদার, তদন্তকারী সাংবাদিক এবং দ্য ইন্ডিয়া অবজার্ভার, নিউ জার্সির ব্যুরো প্রধান। ছিলেন নিশরিন জাফরি, গুজরাটের দাঙ্গায় নির্মমভাবে নিহত হওয়া কংগ্রেস মন্ত্রী আহসান জাফরির মেয়ে।

“Teesta Setalvad যখন ভুক্তভোগীদের জন্য আইনী লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছিল তখন আমি ঠিক বুঝতে পারিনি যে এটি ন্যায়বিচারের দীর্ঘ, নিঃসঙ্গ রাস্তা। তবে আমি বিশ্বাস করি যে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে। আশা করি বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা এটির সাক্ষী হওয়ার জন্য দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবেন।” – Gujarat Massacre 2002 নিয়ে মন্তব্য নিশরিন জাফরির

ছিলেন ফাদার সিড্রিক প্রকাশ, জেসুইট পুরোহিত, কনসার্নড সিটিজেন ট্রাইব্যুনালের (সিসিটি) নেতৃত্বদানকারী এক্টিভিস্ট, যিনি গুজরাটের দাঙ্গার বিষয়ে নাগরিক প্রতিবেদন নথিভুক্ত করে উপস্থাপন করেছেন এবং গুজরাটের দাঙ্গার শিকার হওয়া ৩৮ জন গণধর্ষণের শিকার ব্যক্তিদের বিস্তারিত বিবরণী নথিতে সহায়তা করেছিল এমন এক কর্মী শবনম হাশমি।

এখানে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে যে গুজরাট গণহত্যা 2002 এর পর ভারতের গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মার্কিন ভ্রমণ ভিসা নিষিদ্ধ করার জন্য এক দশকেরও বেশি সময় ধরে The Alliance to Save and Protect America from Infiltration Religious Extremists (ASPAIRE) সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

গুজরাট গনহত্যা 2002, Gujrat Pogrom 2002, Naroda Patia Gujarat Massacre 2002
গুজরাট দাঙ্গায় অত্যাচারের শিকার বিলকিস বানো। Gujarat Massacre 2002

এই ওয়েবিনারে এহসান জাফরির মেয়ে নিশরিন জাফরি বলেন যে গুজরাট গনহত্যার অপরাধীরা এখনো শাস্তি পায়নি। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে অপরাধীরা একদিন অবশ্যই সাজা পাবে এবং দাঙ্গার ভুক্তভোগীদের বেঁচে থাকা অবস্থাতেই সেটা হবে। তার বক্তব্য এখানে তুলে ধরা হল।

“2002 সালে, যখন আমার ভাই তানভীর জাফরি ​​জানতে পেরেছিলেন যে আমার বাবা Ehsan Jafri ​​সহ ১৬০ জন মহিলা ও শিশুদের নিয়ে গুলবার্গ সোসাইটিতে গণহত্যা হয়েছে, সম্পদ ধ্বংস হয়েছে, লোকজন পুড়িয়ে মেরেছে, টুকরো টুকরো করেছে, তখন তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তিনি বিশ্রাম নেবেন না।

আহমেদাবাদ শহরে, ৬০০ জন মুসলমানের একটি সম্প্রদায়, ৩০-৩৫ বছর ধরে একসাথে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বাস করছিল। ভয়াবহ দিনটিতে, আমাদের বাড়ি থেকে মাত্র তিন মাইল দূরে বৃহত্তম এশিয়ান হাসপাতাল, আমাদের বাড়ি থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে সামরিক ঘাঁটি এবং পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের কয়েক মিনিট দূরে সিলিন্ডারে সজ্জিত ১০,০০০ শক্তিশালী জনতা, অ্যাসিড, আগ্নেয়াস্ত্র, ত্রিশুল, তরোয়াল নিয়ে আমার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া লোকগুলিকে চারিদিক থেকে ঘিরে রেখেছিল এবং ঠাণ্ডা মাথায় তাদের হত্যাযজ্ঞ সংগঠিত করেছিল।

গুজরাট গনহত্যা 2002, Gujrat Pogrom 2002, জাঁকিয়া জাফরি Gujarat Massacre 2002
জাকিয়া জাফরি- এহসান জাফরির স্ত্রী। Gujarat Massacre 2002

যখন দাঙ্গাবাজরা নারীদের মাথা কেটে, যুবতী মেয়েদের ধর্ষণ করে, কেরোসিন এবং পেট্রোল দিয়ে ছোট বাচ্চাদেরকে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল তখন রাজ্যের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল এই গনহত্যা পরিকল্পনা করেছিল এবং পুলিশ, কন্ট্রোল রুম এবং সামরিক বাহিনীকে এক জায়গায় দাঁড় করিয়েছিল।

আপনার চোখ বন্ধ করুন এবং ভয়াবহ ঘটনাগুলো স্মরণ করুন। যে সমস্ত মহিলা তাদের স্বামী, তাদের সন্তান, তাদের ভাই-বোনদের হারিয়েছেন এবং কীভাবে তারা এখন বেঁচে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। সেই বেঁচে থাকা মহিলার বেদনা কল্পনা করুন।

যারা ন্যায়বিচার পেতে লড়াই করছেন তাদের সকলকে আমি সালাম জানাই।

তিস্তা সেতালবাড় Teesta Setalvad যখন ভুক্তভোগীদের জন্য আইনী লড়াইয়ের লিপ্ত হয়েছিল তখন আমি ঠিক বুঝতে পারি নি যে এটি ন্যায়বিচারের দীর্ঘ, নিঃসঙ্গ রাস্তা। তবে আমি বিশ্বাস করি যে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে। আশা করি বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা এটির সাক্ষী হওয়ার জন্য দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবেন।

গুজরাট গনহত্যা 2002, Gujrat Pogrom 2002, Naroda Patia Gujarat Massacre 2002

বিশ্বকে জানাতে হবে যে Gujarat Massacre 2002 (গুজরাট গণহত্যা 2002) সালে যে মহিলারা ভুক্তভোগী হয়েছিল তারা 1969 সালেও ভোগ করেছিল। বেশিরভাগ, আমার পরিবার সহ। আমরা তখনও সম্পত্তি হারিয়েছিলাম, যখন আমরা চাঁনপুরায় একই এলাকায় বাস করতাম। আমি শরণার্থী বাচ্চা হিসাবে জীবনে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, যখন আমার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর।

আমি আহমেদাবাদে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে তীব্র ঘৃণা দেখেছি, তার সমাধান করা দরকার। ভুক্তভোগীদের কথা বলা দরকার। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা পিছনে রেখে ঘৃণা কতটা ক্ষতি করতে পারে তা আমি লোকজনকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।”

Gujarat Massacre 2002 – 19 বছর পরেও ক্ষতিগ্রস্থরা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন

Read More- Gujarat Pogrom 2002: After 19 years, victims still waiting for justice

Gujarat Massacre 2002

Gujarat Pogrom 2002

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

CAPTCHA