বান্দ্রা

বান্দ্রা- গোদী মিডিয়া তেরা নাম ইসলামোফোবিয়া

বান্দ্রা স্টেশনের পাশে জমায়েত নিয়ে এক শ্রেনীর গোদী মিডিয়া ধর্মকে জুড়ে দিতে চেষ্টা করেছিল। সেই বিষয়েই লিখেছেন মুহম্মদ আবদুল্লাহ।

শুনেছি মিডিয়া নাকি গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। শুধু শুনেছি বললে ভূল হবে বরং পড়েছি ও।কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সেটা শোনা বা পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে,বাস্তবে তার বিন্দুমাত্র প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি না (ব্যাতিক্রম হয়তো কিছু আছে)। চলুন ভূমিকা না বাড়িয়ে মূল কথায় আশা যাক। বান্দ্রা স্টেশন এর ঘটনা আশা করছি আপনারা এতক্ষনে সবাই জেনে গিয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো কিছু গদি মিডিয়া সেটাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। মিডিয়ার কাজ ছিল নিরপেক্ষভাবে সংবাদ পরিবেশন করে সত্যতা তুলে ধরা। অথচ মিডিয়া একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে টার্গেট করে সংবাদ পরিবেশন করছে। বাদ নেই প্রায় কোন মিডিয়া হাউস।  সবথেকে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো -মিডিয়া প্রথমে সিদ্ধান্ত করে নিয়েছে এই ঘটনার সাথে বান্দ্রা জামে মসজিদের যোগ ছিল। সেখান থেকেই মানুষকে জড়ো হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পর এই সিদ্ধান্ত কে সঠিক প্রমাণ করার জন্য কোনো রকম প্রমাণ ছাড়াই একের পর এক মিথ্যাচার করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বান্দ্রা স্টেশনের পাশে যে মসজিদ আছে লক ডাউনের ফলে তা আগে থেকেই বন্ধ আছে।  

মিডিয়া কেন এভাবে খবর পরিবেশন করছে?

কোন একটি ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই যদি সেই ঘটনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। এবং সেই সিদ্ধান্তকে প্রমাণ করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তাহলে সেই ঘটনার সাথে জড়িত আসল অপরাধীরা যে আড়ালেই থেকে যাবে। এটা বোঝার জন্য আপনাকে মাস্টার ডিগ্রী করার প্রয়োজন নেই। মাথাই একটু বুদ্ধি থাকলেই এই সহজ কথাটি বুঝতে পারবেন। তবে কি সরকারের অকর্মণ্যতা কে ঢাকতেই এটা করা হচ্ছে? প্রশ্নটা থেকেই যাই। কোনো দিন তো দেখলাম না কোনো একটা মন্দির এর ক্ষেত্রে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি। অবশ্য কোনো দিন দেখতে ও চাই না। তবে সেটা মসজিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হোক এটাই চাই। এখন কথা হচ্ছে এই যে অগ্রিম সিদ্ধান্ত মূলক নিউজ দেখার পর কোথাও যদি কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাহলে তার দায় কে নিবে? যে বিষ টা একটা সম্প্রদায়ের মানুষের বিরুদ্ধে আরেকটা সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হলো। আসল ঘটনা যখন প্রকাশিত হবে তখন সেই বিষ বের করার দায়িত্ব কি এই গদি মিডিয়া নিবে? 
সত্যি টা যেদিন সামনে আসবে সেই দিন এই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কী কোনো অ্যাকশন নেওয়া হবে? কিংবা তারা কি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইবেন? গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ আজ যখন নিজ দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে অনবরত একটা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করে চলেছে তখন ন্যায়ালয় এর বর্তমান ভূমিকা কতটা যুক্তিযুক্ত? আর সরকারই বা কেন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না? নাকি তারাও এটাই চাইছেন? পরিশেষে বলি প্রশ্ন অনেক, কিন্তু উত্তর অজানা।
এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

CAPTCHA