২০ বছর পর বেকসুর খালাস ১২৭ জন 'সিমি (SIMI) সদস্য'

২০ বছর পর বেকসুর খালাস ১২৭ জন ‘সিমি (SIMI) সদস্য’

দীর্ঘ ২০ বছর পর বেকসুর খালাস পেলেন স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অফ ইন্ডিয়া (SIMI) র নামে গ্রেফতার হওয়া ১২৭ জন মুসলিম। উল্লেখ্য ২০০১ সালের ২৭ শে ডিসেম্বর গুজরাট থেকে মিথ্যা মামলায় UAPA  আইনে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। 

অল ইন্ডিয়া সংখ্যালঘু শিক্ষাবোর্ডের (All India Minority Educational Borad) মাধ্যমে সুরতের রাজশ্রী হলে মুসলিমদের শিক্ষার বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছিল। যেখানে উপস্থিত ছিলেন সারা ভারত থেকে আগত আলিম, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং সামাজিক কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন সম্মানিয় ব্যক্তিবর্গ।

সুরত পুলিশের আটওয়া পুলিশ পরিদর্শক পাঁচোলি গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে সম্মেলনে জড়িত সমস্ত মুসলমানকে ‘সিমি’ (SIMI) কর্মী হিসাবে গ্রেপ্তার করেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল যে তারা অপরাধমূলক কিছু করার তাগিদে জড়ো হয়েছিল। ১১ মাস কারাগারে রাখার পরে গুজরাট হাইকোট জামিনে সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এই সময়ে, গণমাধ্যমগুলি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রচুর প্রচারণা চালিয়েছিল। আসামিদের অনেকেরই চাকরি হারিয়েছে, তাদের ব্যবসায় ক্ষতি হয়েছে এবং স্থানীয় পুলিশ তাদেরকে বিভিন্ন বাহানায় সর্বত্র হয়রানি করতে থাকে।

আজ, ২০ বছর পরে, সুরত চিফ ম্যাজিস্ট্রেট এএন দাভে সাহেব ‘সিমি’র (SIMI) এর অভিযোগে গ্রেফতারকৃত সমস্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসাবে প্রমাণ করেছেন। কোর্ট স্বীকার করেছে যে সেই সম্মেলনটি নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামী সংগঠন সিমির ছিল না বরং অল ইন্ডিয়া সংখ্যালঘু শিক্ষাবোর্ডের (All India Minority Educational Borad) দ্বারা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আদালতে ২০ বছর ধরে চক্কর লাগানোর পরে আজ তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

SIMI
বেকসুর খালাস সিমি সদস্যরা

রিপোর্ট অনুসারে, তারা সেখানে ‘সংখ্যালঘু শিক্ষা’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী সেমিনারে জড়ো হয়েছিলেন। আটককৃতদের মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা কোনওভাবেই সিমির সাথে সম্পর্কিত নয়। মুক্তিপ্রাপ্ত আসামিদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এমএম শেখ সাহাব বলেছেন যে- “নিষিদ্ধ সংগঠন ‘সিমি’-যোগের কোনও আসামির বিরুদ্ধে থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় আদালত তাদের সবাইকে খালাস দিয়েছে। আদালতও স্বীকার করেছেন যে কেউ কোন অবৈধ কাজ করেনি।”

আদালত ২০ বছর পরে প্রমাণের অভাবে আমাদের “সম্মানজনক মুক্তি” দিয়েছে, তবে আমার প্রশ্নটি তাদের সম্পর্কে যারা আমাদের জড়িত করেছিল এবং সেই সমস্ত বছর ধরে আমাদের এবং আমাদের পরিবারকে কষ্ট দিয়েছে তাদের কি কিছু হবেনা?  আমরা প্রায় এক বছর জেলে ছিলাম এবং জামিনের পরেও আমাদের মাসিক ভিত্তিতে আদালতে হাজিরা দিতে হতো ” বলেছেন SIMI’র প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিদ্দিকী।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং পেন্টাগনে হামলার পরে ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরিবেশের সুযোগ নিয়ে ২০০১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি নিষিদ্ধ হওয়ার পরে সিমির নামে সেখানেই প্রথম মুসলিম বুদ্ধিজীবীদেরকে ব্যাপকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

গ্রেপ্তার হওয়া যুবকরা ভারতের ১০ টি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। সর্বাধিক সংখ্যক ৪৪ জন ছিলেন মহারাষ্ট্রের, তারপরে গুজরাট ২৬, মধ্য প্রদেশ ১৩, কর্ণাটক ১১, উত্তর প্রদেশ ১০, রাজস্থান ৯, পশ্চিমবঙ্গ ৪, তামিলনাড়ু ৪, বিহার ২ এবং ছত্তিসগড় ১। উল্লেখ্য মামলা চলাকালীন ৫ জন ইতিমধ্যেই ইন্তেকাল করেছেন।

প্রসঙ্গত, সন্ত্রাস ছড়ানোর মিথ্যা অভিযোগে মুসলিম যুবকদের গ্রেফতার হওয়া ও তারপর তাঁদের জেল খাটার ঘটনা আগেও ঘটেছে।

সিমি সদস্যদের বেকসুর মুক্তি পাওয়ার পরের ভিডিও

Read More- 127 SIMI members acquitted of terrorism charges Surat Court after 20 years

 

২০ বছর পর বেকসুর খালাস ১২৭ জন সিমি (SIMI) সদস্য

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

CAPTCHA