অনাথ হিন্দু মেয়ের বিয়েতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে সম্প্রীতির বার্তা দিল প্রতিবেশী মুসলিম গ্রামবাসী

এইচ.ইউ.ফারুক,ডিএনএম,চাঁচল,২৪ নভেম্বর:
গ্রামের হিন্দু অনাথ মেয়ের বিয়ের যাবতীয় দায়িত্ব ভার বহন করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়লেন প্রতিবেশী মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।ঘটনা টি ঘটেছে মালদা জেলার চাঁচল-২ ব্লকের খানপুর গ্রামে।ইতিপূর্বে অসহায় হিন্দু পরিবারের পারলৌকিক ক্রিয়াকর্ম করে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন এই জেলার মানিকচক ব্লকের একদল মুসলিম পরিবার। এবার অনাথ যুবতীর  বিয়েতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়লেন খানপুরের বাসিন্দারা। কনেপক্ষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বরযাত্রীদের আপ্যায়ন থেকে শুরু করে নববধূর সাংসারিক জীবন শুরুর আগে তাকে যথাসাধ্য সাহায্য করলেন একদল মুসলিম যুবক। আর যার তত্বাবধানে এই সম্প্রীতির নজির গড়লো তিনি একজন মাদ্রাসার শিক্ষক। ললিয়াবাড়ি সিনিয়র মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক মতিউর রহমানের উদ্যোগে প্রতিবেশি হিন্দু পরিবারটির পাশে দাঁড়ালেন মুসলিমেরা। অনাথ মেয়েটি আর নিজেকে অনাথ না ভেবে হেসেখেলে নতুন সংসারে পদার্পন করলেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য চাঁচল২ ব্লকের খানপুর গ্রামের পেশায় মৎস্যজীবী তেজলাল চৌধুরী  গত বছর মারা যান । পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে স্বামীস্ত্রী মাছ বিক্রি করে সংসার চালাতেন। তিনি একবার গ্রাম পঞ্চায়েতের মেম্বারও ছিলেন।
কিন্তু হঠাৎ যেন ছন্দপতন ঘটে যায় গতবছর সংসারের মায়া ত্যাগ করে মারা যান তেজলালবাবু। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে আগেই। দ্বিতীয় মেয়ে সরস্বতী চৌধূরীর বিয়ের সম্বন্ধ ঠিক হওয়ার পরে মাথায় যেন বাজ পড়ে বিধবা শোভারানী দেবীর। চলে যাওয়া স্বামীর মাছ বিক্রির পেশা আঁকড়ে ধরে দিন চললেও  মেয়ের বিয়ের খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে । একথা জানতে পেরে এগিয়ে আসেন মতিউর সাহেব। পাশে পেয়ে যান আবদুল বারী, এমাদুর রহমান, সহিদুল ইসলাম সহ আরো অনেককেই। তাদের সাহায্যেই বৃহস্পতিবার রাতে সানাই এর বাজে বিদায় হয় নতুন বধূ। মতিউর সাহেব অল ইন্ডিয়া ইমামস কাউন্সিল এর মালদা জেলা সম্পাদকও বটে। উল্লেখ্য বিয়ে অনুষ্ঠানের চাল,ডাল থেকে নব দম্পতির পরিধানের বস্ত্র ও নগদ কয়েক হাজার টাকা সবকিছুর আয়োজন করেছে খানপুর গ্রামের মুসলিম বাসিন্দারা। কনেপক্ষের পাশে দাঁড়িয়ে বিয়ে অনুষ্ঠান সারেন তারা। শশুরবাড়ি যাওয়ার আগে সরস্বতী জানান, তার একবারও মনে হয়নি বাবা নেই। প্রতিবশি মুসলিম কাকুরাই তাকে বাবার আদর দিয়ে বিদায় দিয়েছে। এপ্রসঙ্গে তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের জেলা সভাপতি মোশারফ হোসেন,মতিউর সাহেব সহ অন্যান্য বাসিন্দার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, মালদার মাটি সম্প্রীতির মাটি। এখানে হিন্দু মুসলিম পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে চলাটাই রেওয়াজ।দেশে যখন অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ তখন খানপুর গ্রামের এই সম্প্রীতির অনন্য নজির দেশের মানুষকে পথ দেখাবে বলে মত প্রকাশ করেন এলাকার শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *