‘শিক্ষা প্রসারে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক,ডিএনএম,চাঁচল,১৯নভেম্বর:যে জাতি যত শিক্ষিত সেই জাতি তত উন্নত।তাই উন্নত ও আদর্শ দেশ ও জাতি গঠনে শিক্ষার ব্যাপক প্রসার প্রয়োজন।বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষা প্রসারে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।শিক্ষার গুরুত্ব ও প্ৰয়োজনীয়তা বোঝাতে এদিন ‘শিক্ষা প্রসারে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব’ শীর্ষক এক আলোচনা চক্র অনুষ্ঠিত হল।

বক্তব্য রাখছেন আল হারামাইন আকাদেমির সম্পাদক ইব্রাহিম আলি
মালদার চাঁচল২ ব্লকের চাঁন্দুয়া দামাইপুরে আল হারামাইন আকাদেমি নামক এক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এই আলোচনা চক্র অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক মহম্মদ মুশারফ হোসেন,গবেষক ও তরুণ সাংবাদিক হজরত উমার ফারুক,বিরস্থলী শিক্ষক শিক্ষণ কলেজের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক অসীম বিশ্বাস,সম্পাদক সামিউল ইসলাম প্রমুখ।
সাংবাদিক মোশাররফ হোসেন

মাওলানা আবু তাহের সাহেবের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা চক্রের সূচনা হয়।স্বাগত ভাষণ দেন প্রতিষ্ঠানের প্রধানশিক্ষক মুহাম্মদ ফসিরুদ্দিন।স্বাধীনতার ৭০বছর পরেও মুসলিমদের আর্থ সামাজিক অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি।আর এর জন্য মুসলিমদের শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে থাকার বিষয়টি দায়ী বলে মতপ্রকাশ করেন মুশারফ হোসেন। তিনি আরো জানান, আল আমীন মিশন বাংলায় পিছিয়ে পড়া মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের নতুন দিশা দেখিয়েছে।আল আমীনের দেখানো পথেই পরবর্তীতে প্রায় প্রতিটি জেলায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
গবেষক ও সাংবাদিক হজরত উমার ফারুক

হজরত উমর ফারুক জানান,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশির বিপর্যয়ের পর প্রবল ইংরেজ বিদ্বেষ বশত মুসলিমরা ব্রিটিশ শাসন কালে ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণ না করে নিজেদের তৈরি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উপর নির্ভর করেছে।ফলে সরকারি চাকরি বাকরীতে তারা পিছিয়ে পড়ে।পরবর্তীতে স্যার সৈয়দ আহমেদ ইংরেজি শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।তাঁর আলীগড় শিক্ষা আন্দোলন মুসলিম সমাজে নবজাগরণের সূচনা করে বলে তিনি জানান।বর্তমান প্রেক্ষাপটে আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চায় মিশন শিক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী সামিউল ইসলাম বলেন,  প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষারও প্রয়োজন রয়েছে।তবেই শিক্ষার্থীর নৈতিক ও চারিত্রিক গুণাবলী বিকশিত হবে।২০১১ সালের সেন্সাস রিপোর্টের প্রসঙ্গ তুলে আল হারামাইনের সম্পাদক ইব্রাহিম আলি জানান, বাংলার তথা মালদার মুসলিম জনগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েরা শিক্ষা ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে রয়েছে।এদেরকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।আর এর জন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির যথেষ্ট বড় ভূমিকা রয়েছে।এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ড.আবদুত তৈয়ব কাসেমী,আল হারামাইন আকাদেমির শিক্ষক নাজমুল হক, মসিউর রহমান প্রমুখ।আগামী দিনে এইসব প্রতিষ্ঠান থেকেই দক্ষ চিকিৎসক, অধ্যাপক, প্রশাসক ও নেতা উঠে আসবে বলে আশা ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক অধ্যাপক মুর্শেদুল হাসান।উক্ত আলোচনা চক্রে উপস্থিত ছিলেন প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষানুরাগী অভিভাবক, শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *