মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি একটি মৌলিক অধিকার

মোঃ সাহাদাতহোসেন

“শিক্ষা হলো সমস্ত প্রকার সম্পদের জননী। ” অধ্যাপক মিচেলের এই বিখ্যাত বাণী চরম সত্য। কোনো ব্যাক্তির মধ্যে কোটি টাকার সম্পদ থাকলেও সে অন্ধ, সম্বলহীন। একজন মানুষ শিক্ষার মূল্য বুঝতে পারে তখনই যখন সে ব্যাঙ্কে, স্টেশনে, অফিস – আদালতে যায় ও অপদস্ত হয়ে ফিরে আসে। মানুষের মতো মানুষ হতে গেলে শিক্ষা অর্জন করা বাধ্যতামূলক। শিক্ষা ছাড়া আদর্শ মানুষ হওয়া যায় না। এ ব্যাপারে মহান মনীষী হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলেন – প্রত্যেক নর ও নারীর জন্য শিক্ষালাভ করা অপরিহার্য্য। শিক্ষাই মানুষকে সভ্য করে গড়ে তোলে। শিক্ষাই পারে আদর্শ সমাজ উপহার দিতে। তাইত প্রখ্যাত দার্শনিক আরিস্টটল বলেন – মৃত ও জীবিত ব্যাক্তির মধ্যে যেমন পার্থক্য অনুরুপ শিক্ষিত ও অশিক্ষিত ব্যাক্তির মধ্যে সেই পার্থক্য। এরকম অসংখ্য বাণী রয়েছে শিক্ষা সম্পর্কিত। ভালো – মন্দের বিচার শিক্ষিত ব্যাক্তি ছাড়া অন্য কেউ করতে পারেনা। আর শিক্ষালাভের জন্য প্রয়োজন শিক্ষালয়ের। কিন্তু অত্যান্ত পরিতাপের বিষয়! আজ বড়ই অভাব উপযুক্ত ও সুন্দর পরিকাঠামোযুক্ত শিক্ষাঙ্গনের।

আমার সাধের জেলা মুর্শিদাবাদ। ঐতিহাসিক একটি জেলা মুর্শিদাবাদ। অখন্ড বাংলা, বিহার, ওড়িশার রাজধানী ছিল এই জেলা। একসময়ে এই জেলাকে লন্ডনের সাথে তুলনা করা হতো। এত উন্নত ছিল এই জেলা। অথচ এতটাই পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে যা রাজমিস্ত্রীদের জেলায় পরিণত করে দেওয়া হয়েছে। কেরল, চেন্নাই, কর্নাটকে রাজমিস্ত্রী কারা খাটবে মুর্শিদাবাদের নাগরিক ছাড়া অন্য কেউ নয়! এটা কেন হলো? উচ্চ শিক্ষার অভাবেই একমাত্র এ জেলা রাজমিস্ত্রির জেলায় পরিণত হয়েছে। তারা এইচ এস, স্নাতক ডিগ্রী হাসিল করে কাছে যখন উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পায়না তখন তারা অন্য রাজ্যে পাড়ি দেয় কর্মসূত্রে। এই জেলার আয়তন প্রায় 5324 বর্গকিমি। এত বড় একটা জেলায় একখানা বিশ্ববিদ্যালয় নেই যা জাতির জন্য লজ্জা, দেশের জন্য লজ্জা। রাইট টু এডুকেশন আক্ট অনুযায়ী প্রতি দশ লক্ষ জনসংখ্যা বিশিষ্ট এলাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় থাকতে হবে। এই জেলার জনসংখ্যা প্রায় 75 লক্ষ। তাহলে মুর্শিদাবাদে কটি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত তা আপনারা সহজেই অনুমেয়। দুঃখের বিষয় ওই দিকে মালদায় গৌড়বঙ্গ, বীরভূমে বিশ্বভারতী, নদীয়ায় কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সবগুলোই বহুদূরুত্বে অবস্থান করছে। এত বিশাল জনসংখ্যা বিশিষ্ট একটা জেলা যেখানে একটিমাত্র ভার্সিটি নেই যা খুবই দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক।

আজ স্বাধীনতার সত্তর বছর কেটে গেছে। এখানে বহুবার বহু শাসক দল গদিতে বসেছে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় করার ব্যাপারে কারও সদর্থক ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। মুর্শিদাবাদ জেলার এ বড় বঞ্চনা। অন্যদিকে আবার যে জেলাগুলিতে বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে সেগুলিতে নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষনা দেওয়া হচ্ছে। এটা কি তেলের মাথায় তেল ঢালা নয়? এটা কি চরম দ্বিচারিতা নয়? নাকি ছলে বলে কৌশলে মুর্শিদাবাদকে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে? ইতিমধ্যে আমরা লক্ষ্য করেছি এস.আই.ও নামক একটি আদর্শবাদী ছাত্র সংগঠন মুর্শিদাবাদের আপামর জনগণকে নিয়ে 2014 সালে ও পূনরায় 2015 সালের ডিসেম্বর মাসে এক বৃহত্তর আন্দোলন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে। শিক্ষার জন্য আন্দোলন করতে হয় যা অত্যান্ত নিন্দনীয়। শিক্ষাতো মৌলিক অধিকার। এতো অটোমেটিক হওয়া উচিত।
পরিশেষে বলি! বর্তমান সরকার আপনারা যারা গদিতে বসে রয়েছেন হয়ত আপনারা অন্যের তুলনায় ভালো। আপনারা কণ্যাশ্রী, যুবশ্রী, সমব্যাথী প্রকল্প, সাইকেল বিতরণ ইত্যাদি করছেন খুব ভালো জিনিস। চালিয়ে যান ওগুলো। তবে যেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন। যা এতদিন ধরে কোনো সরকার করতে পারেনি। আপনাদের উচিত মা মাটি মানুষের সরকার হিসেবে অতি দ্রুত মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষনা দেওয়া। ও তার কাজ শুরু করা। আর একাজ হবে আপনাদের মহান কাজ। ইতিহাস সাক্ষী হয়ে থাকবে যে ঘাস -ফুল রাজত্বে মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী হয়েছিল। আর সেটা হবে বড় কৃতিত্ব। আর যদি না হয় তাহলে মুর্শিদাবাদের আম জনতা এমন ভাবে জাগ্রত হয়েছে যা আর তারা কোনো ভাবেই এ বঞ্চন মেনে নেবেনা। আর ইতিহাসও কাউকে ক্ষমা করবেনা। তাই শিক্ষা মন্ত্রীর প্রতি আমার হার্দিক অনুরোধ উক্ত বিষয়টি ভেবে অতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *