‘শিক্ষকশ্রী’ শিরোপা অর্জন কালিয়াচক কলেজের অধ্যক্ষ ড.নজিবর রহমানের

এইচ.ইউ.ফারুক,ডি.এন. এম,মালদা,১১অক্টোবর:মালদা জেলার কালিয়াচক এলাকা সমাজবিরোধী কাজকর্মের জন্যই সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে।কিন্তু এবার কালিয়াচক শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য সংবাদ শিরোনামে।কালিয়াচক কলেজের অধ্যক্ষ ড.নজিবর রহমান এবছর আন্তর্জাতিক ‘শিক্ষকশ্রী’ সম্মানে ভূষিত হলেন।এই সংবাদ প্রকাশ হতেই জেলা জুড়ে খুশির হওয়া।নেপালের কাঠমান্ডু স্থিত ‘আন্তঃ রাষ্ট্রীয় সমরাসতা’ মঞ্চ এবছর সারা বিশ্বের ১০০জন ব্যক্তিত্বকে শিক্ষা ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য পুরস্কৃত করে।এই সংস্থার কাজ বিশ্ব ব্যাপী শিক্ষা র প্রসারও সমাজ সেবা মূলক কাজ করা।ভারতবর্ষ যাতে ভেটো ক্ষমতা সহ জাতিসংঘে স্থায়ী সদস্য পদ লাভ করে তার জন্য বিশ্ব ব্যাপী জনমত তৈরি করা এই সংস্থার মূল উদ্দেশ্য।
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কালিয়াচক কলেজের অধ্যক্ষ পদে গত ২০১৫ সালের জুলাই মাসে ড.নজিবর রহমান যোগদান করেন।তার পূর্বে তিনি অসমের ওয়েস্ট গোয়ালপাড়া কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দক্ষতার সহিত কাজ করেন।কালিয়াচক কলেজে যোগদানের পর থেকেই তিনি কলেজের খোলনলচে বদলে দিতে সক্ষম হন।গুনগতমানের শিক্ষা বিস্তার ও শিক্ষা ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগে তিনি সদর্থক ভূমিকা পালন করেন।গতবছর কলেজে চারটি ডিজিটাল ক্লাস রুম স্থাপন করা হয়েছে।এই বছর হয়েছে একটি ভার্চুয়াল ক্লাসরুম।কলেজে একটি ল্যাংগুয়েজ ল্যাবরেটরি স্থাপন করে তিনি জেলা তথা রাজ্যের উচ্চ শিক্ষার জগতে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।এই ভাষা গবেষণাগারএর মাধ্যমে ছাত্র ছাত্রীদের ইংরেজি ও আরবি ভাষায় পারদর্শী করার জন্য ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স চালু হয়েছে।প্রায় ৫বছর আগে এই কলেজ গন্ডগোল ও অশান্তির কেন্দ্রস্থল ছিল।গত দুই বছর থেকে কলেজের পঠন-পাঠন উন্নত হয় ও ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষায় ফলাফলও ভাল হতে থাকে।২০১৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগে ও ২০১৭ সালে বাংলা বিভাগের এই কলেজের শিক্ষার্থী গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে।১৯৯৫ সালে স্থাপন হওয়া এই কলেজে সর্ব প্রথম আন্তর্জাতিক স্তরের আলোচনাচক্র অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী নভেম্বর মাসে।শিক্ষকশ্রী সম্মানের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ড.নজিবর রহমান জানান-দিল্লিতে জাতীয় শিক্ষক সম্মেলনে পুরস্কার গ্রহণ করার জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।তবে কলেজের কাজে ব্যস্ততার কারণে সেখানে উপস্থিত হতে পারিনি।পরবর্তীতে সংস্থার পক্ষ থেকে শংসাপত্র, সাদা শাল,শিক্ষকশ্রী ব্যাজ ইত্যাদি স্পীড পোস্টের মাধ্যমে পৌঁছনো হয়। ড.নজিবর রহমান তা সাদরে গ্রহণ করে আনন্দ চিত্তে বলেন-এই পুরস্কার আমার দায়িত্ব আরো শতগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।শিক্ষার উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতে বেশি বেশি নজর দেওয়া দরকার।মালদা জেলায় এগারোটি কলেজ রয়েছে,প্রত্যেকটিতেই শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাতের সামঞ্জস্য নেই।এছাড়াও রয়েছে উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাব, ফলে ব্যাহত হচ্ছে পঠনপাঠন।জেলায় কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি করা খুবই প্রয়োজন এবং বর্তমান কলেজগুলির আধুনিকীকরণ করা সময়ের দাবি।
শিক্ষকশ্রী সম্মান ছাড়াও ড.নজিবর রহমান ইতিপূর্বে পেয়েছেন কলকাতার মধুসূদন দত্ত আকাদেমির পক্ষ থেকে ‘সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত আওয়ার্ড’,মুম্বাইয়ের এম.ভি.এল.এ ট্রাস্ট সম্মানিত করে ‘হল অব ফেম আওয়ার্ড’এ,আহমেদাবাদ গ্লেসিয়ার্সেস জার্নাল গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট কাউন্সিল ‘বেস্ট টিচার্স আওয়ার্ড’ প্রদান করে তাঁকে সম্মানিত করে।এবার আন্তর্জাতিক ‘শিক্ষকশ্রী’ সম্মান ড.নজিবর রহমানের মুকুটে সংযোজিত করল নতুন পালক।আগামীদিনে জেলার শিক্ষা প্রসারের কাজে তিনি আত্মনিয়োগ করতে চান বলে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *