‘হাই কোর্টের রায় মানতে বাধ্য নয় রাজ্য সরকার’-মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর এই মন্তব্য ঘিরে তুমুল বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক,ডি.এন.এম,কলকাতা,৬অক্টোবর:মাদ্রাসা শিক্ষক সংগঠনের উদ্যোগে মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন বিষয়ক এক সেমিনার গতকাল উর্দু আকাদেমির সভাগৃহে অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত সেমিনার থেকে বেরিয়ে রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর একটি মন্তব্যে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকুরি প্রার্থীরা মাননীয় মন্ত্রীর কাছে জানতে চান হাই কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্বেও কমিশন কেন নিয়োগ করছে না।উত্তরে মন্ত্রী বলেন-‘হাই কোর্টের রায় মানতে বাধ্য নয় রাজ্য সরকার’।মন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।মহামান্য হাই কোর্টের রায় কে এই ভাবে তিনি হেয় প্রতিপন্ন করতে পারেন কি করে?প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে।ভারতবর্ষ একটি সার্বভৌম,গণতান্ত্রিক দেশ,যার স্বাধীন বিচারব্যবস্থা রয়েছে।দেশের প্রতিটি নাগরিক সেই বিচারব্যবস্থার নির্দেশ মানতে বাধ্য।কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন,না কোন নাগরিক না কোন নির্বাচিত সরকার।তবে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর এই মন্তব্য কি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক নয়?বুদ্ধিজীবী মহলের মতে দায়িত্ব জ্ঞানহীন মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।হাই কোর্টের কোন সিদ্ধান্ত কারো পছন্দ না হলে তাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া যেতে পারে।কিন্তু তিনি আইনের পথে না গিয়ে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করতে চেয়েছেন।এছাড়াও তিনি মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন রক্ষার জন্য আন্দোলনকারিদের প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।মন্ত্রীর এই মন্তব্যে রীতিমতো হতাশ চাকুরি প্রার্থীরা।তাদের মতে আমরা কোন সরকার বিরোধী আন্দোলন করিনা।সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মাননীয় মন্ত্রী মহাশয়ের নিকট বিনম্র আবেদন করেছিলাম যাতে আমাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হয়।যেহেতু গত ১১ই সেপ্টেম্বর মহামান্য হাই কোর্ট মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন কে 6th slst এর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছেন।শিক্ষাবিদ দের মতে মাদ্রাসায় দীর্ঘ পাঁচবছর ধরে শিক্ষক নিয়োগ নেই সেই প্রেক্ষাপটে মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নের স্বার্থে আশু প্রয়োজন শিক্ষক নিয়োগ করা।ফলে শিক্ষক নিয়োগ করার তৎপরতা না দেখিয়ে মন্ত্রী মহাশয় অসাংবিধানিক কথা বলে সরকারের আস্থা ভাজন হয়ে নিজের মন্ত্রিত্ব বাঁচানোর অপপ্রয়াস করেছেন।সকলের একটাই প্রশ্ন এটা মন্ত্রীর ব্যক্তিগত মত না সরকারে?সরকারের সিদ্ধান্ত বিভাগীয় মন্ত্রী বলবেন এটাই স্বাভাবিক।কিন্তু গ্রন্থাগার মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পেছনে কারো প্রচ্ছন্ন হাত নেই তো? -এই সব প্রশ্নে ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলার শিক্ষিত মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *