মন্দিরে মাংস ফেলে রাজ্যে BJP কর্মকর্তাদের দ্বারা সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য নষ্টের প্রচেষ্টা এবং হাতিয়ার ও বোমা সংগ্রহ করার ষড়যন্ত্র ফাঁস

ডি.এন.এম.ডেস্ক:- পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আর এর জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের অবৈধ্য পন্থা অবলম্বন করতেও কুন্ঠিত বোধ করেনা। বিজেপির আই টি সেল সবসময় ব্যস্ত কিভাবে পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে হিন্দু মুসলিমদের মধ্যে দাঙ্গা লাগিয়ে হিন্দু ভোট ব্যাঙ্ককে কাজে লাগানো যাই। এমনই এক তথ্য ফাস হয়েছে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক আই টি সেল বিভাগের চ্যাটের মাধ্যমে।
বিজয় দশমীর দিন পুজোর পরে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে দাঙ্গা লাগানোর পরিকল্পনা ফাঁস হয়েছে ফেসবুকের মাধ্যমে। ফেসবুকে চ্যাটের মাধ্যমে বিজেপির এক নেতা বলে বিজয়দশমীর দিন রাজ্যে দাঙ্গা লাগানোর হাতিয়ার এবং বোমা একত্রিত করা হচ্ছে।
বিখ্যাত নিউজ সংস্থা ন্যাশনাল হেরাল্ডের খবরের মুতাবিক সোসাল মিডিয়া ইউজার সন্তোষকুমার কবুল করেছে যে বিজয়দশমীর দিন পূজোর পরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।
আসলে, এবছর বরিষ্ট নেতাদের সাথে মিলে সন্তোষকুমার নামের ব্যক্তি একটি টিম গঠন করেছে যা বাংলায় হিংসাত্মক ঘটনার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে সাহায্য করবে।
উল্লেখ্য সম্প্রতি তিলজলা মসজিদে আক্রমণের মূলে তাদের গ্রুপেরর সদস্যরাই ছিল বলে প্রকাশ করে সন্তোষ কুমার যার কারনে সেই মসজিদে মুসলমানরা দুদিন নামাজ পড়তে পারেনি।
সন্তোষবাবু যে লিস্ট প্রকাশ করেছে , তারা বেশিরভাগই বিজেপির গুরত্বপূর্ণ নেতার সারিতে বর্তমান। সন্তোষ কুমারের দ্বারা প্রকাশিত লিস্টে জেলার সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে মহিলা মোর্চা ইউনিটের নেতা এবং বিজেপির প্রায় প্রতিটি বিভাগের কর্মীর নাম রয়েছে। এই তালিকায় থাকা সদস্যদের সাথে কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপি নেতাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যা কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপি নেতাদের সাথে সেই সদস্যদের প্রকাশিত ছবির মাধ্যমে জানা যায়। তালিকায় প্রকাশিত সদস্যবৃন্দের কয়েকজনের সাথে বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, স্মৃতি ইরানী এবং রুপা গাঙ্গুলীর ঘনিষ্ঠ ছবিও ন্যাশনাল হেরাল্ড প্রকাশ করেছে।
সন্তোষ কুমার দাবি করেছেন যে, মসজিদে আক্রমন করার বিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ভালভাবেই অবগত আছেন। তিনি আরও দাবী করেন যে, তিনি দিলীপ ঘোষকে পশ্চিমবঙ্গে অস্ত্র কারখানা তৈরী ও সেইসাথে মন্দিরগুলিতে গোমাংস ফেলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরী করার নীল নকশা জমা দিয়েছেন।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজনকে এই দলে নিয়োগ করা হচ্ছে আর এই দলকে ইন্ধন যোগান দিচ্ছে বিজেপি সহযোগী আর এস এস(RSS) এবং বজরং দল। সন্তোষের কথায় এই দলের ৮-১০ জন সদস্য এদের কাছ থেকে বন্দুক চালানো ও দুর্গাপূজার সময় হিংসা ছড়ানোর ট্রেনিং নিয়েছে। বিজেপির বাংলা ইউনিটের কিছু গুরুত্বপূর্ন সদস্যসহ দক্ষিন চব্বিশ পরগনার মোট প্রায় ৪০০ সদস্য এই দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
সন্তোষ কুমারের দ্বারা প্রকাশিত তালিকা – অর্নব মিত্র, সুরোজ কুমার সিংহ, রাজেশ জৈন সুরানা, রশ্মি গান্ধী, সাবিতা চৌধুরি, রাজা বোস, রাজশ্রী লাহিড়ী, গৌরব বিশ্বাস, সুশীল সিংঘাম, ভগবান ঝা, প্রদীপ শর্মা, তাপস পাল, শিবশঙ্কর ভট্ট, নিমাই শাহা, সুনীল দিবেদী, মনোহর পাঠক, সুভাষ শাউ, মন্টি, প্রবীর।
সন্তোষের কথা মতে তাদের কাছে এখন বিহার থেকে চোরাই করে আনা দেশীয় অবৈধ বন্দুক আর বোমা মজুদ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দাঙ্গা লাগাতে আরও বোমা পেতে কোনো সমস্যা হবেনা। সুভাষ, রাজা, মন্টি, নিমাই সুশীল অতি সহজেই বোমার এবং দলের প্রায় সমস্ত সদস্য লাঠি এবং তলোয়ার জোগান দিতে সক্ষম।
উল্লেখ্য,বিজেপি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসাবে উঠে আসছে এবং তারা আশা করছে সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর হিন্দু-মুসলিম দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে এবং আগামী বিধানসভা ভোটে তারা এ থেকে লাভবান হবে।
এই রিপোর্ট থেকে এটা স্পষ্ট যে বিজেপি হিন্দু যুবকদের হাতিয়ার হাতে উঠিয়ে নিতে উত্তেজিত করছে। সন্তোষ কুমারের বয়ান হয়রান করে দেওয়ার মত। এখন দেখা যাক পশ্চিমবঙ্গ সরকার কি পদক্ষেপ নিচ্ছে।

রাজশ্রী লাহিড়ীর সাথে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানী
রাজশ্রী লাহিড়ী এবং সুরজ কুমার সিংহ বিজেপি সাংসদ রুপা গাঙ্গুলির সাথে

সবিতা চৌধুরী ও রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কবিন্দ
রশ্মি গান্ধী পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সাথে

মূল উৎস:-https://www.nationalheraldindia.com/investigation/bjp-worker-spills-beans-on-plans-to-spread-communal-terror-in-wb-says-arms-bombs-being-stored

Like our facebook page to get more updates. To like click on Facebook icon below…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *